অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার পদ্ধতি!

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার পদ্ধতি!
আমাদের আজকের টিউটোরিয়ালটি হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার পদ্ধতি নিয়ে। আমরা সকলে জানি যে, কোনো শিশু জন্ম নেওয়ার পর দেশের নাগরিক হিসেবে তার পরিচয়পত্র হলো জন্ম নিবন্ধন। তাই কোনো শিশু জন্ম নেওয়ার পর অতি তাড়াতাড়ি তার জন্ম নিবন্ধন করা আমাদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। তো এই জন্ম নিবন্ধন করতে আমাদেরকে পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। কিন্তু আপনি ইচ্ছে করলে এখন থেকে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তো এই আবেদনটি কিভাবে করবেন সেই পক্রিয়া নিয়ে আমাদের আজকের এই টিউটোরিয়াল। তো চলুন আজকের টিউটোরিয়ালটি সম্পর্কে নিচে থেকে কয়েকটি স্ক্রিনশটসহ বিস্তারিতভাবে দেখে নেই।

প্রথমে আমাদেরকে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার জন্য একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইট লিংক – http://bris.lgd.gov.bd হচ্ছে এটি।
সাইটটিতে প্রবেশ করার পর ঠিক উপরের স্ক্রিনশটের মত আসবে। আসার পর স্ক্রিনশটের মত “আবেদন পত্র” লেখাটিতে ক্লিক করুন।
তারপর দেখুন উপরের স্ক্রিনশটের মত এসেছে। এখানে আপনাকে প্রথমে আবেদনকারীর বিভাগ, দ্বিতীয়ত জেলা, তৃতীয়ত উপজেলা, চতুর্থত ইউনিয়ন ও পঞ্চমত ওয়ার্ড নং সিলেক্ট করে দিতে হবে। সিলেক্ট করার পর স্ক্রিনশটের মত “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করুন।
উপরের স্ক্রিনশটের মত ঘর অনুযায়ী তথ্যগুলো পূরণ করুন। পূরণ করা শেষ হলে স্ক্রিনশটের মত “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করুন। অবশ্যই ঘরগুলো বাংলাতে পূরণ করবেন।
এইবার দেখুন উপরের (১) ও (২) স্ক্রিনশটের মত বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় একই তথ্য পূরণের ঘর এসেছে। তাই স্ক্রিনশটের মত ঘর অনুযায়ী ইংরেজিতে তথ্যগুলো পূরণ করুন। পূরণ করা শেষ হলে (২) স্ক্রিনশটের মত “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করুন।
এইবার দেখুন উপরের (১) ও (২) স্ক্রিনশটের মত আবেদনের প্রিভিউ পেজটি এসেছে। এখানে আপনাকে ভালো করো সবগুলো তথ্য দেখতে হবে যে কোনো ভুল আছে কিনা। যদি ভুল থাকে তাহলে “পেছনে” বাটনে ক্লিক করে ভুল সংশোধন করে নিন। আর যদি সঠিক থাকে তাহলে (২) স্ক্রিনশটের মত “সংরক্ষণ” বাটনে ক্লিক করুন।
উপরের স্ক্রিনশটের মত সিলেক্টকৃত আবেদন পত্রের নম্বরটি আপনাকে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। কেননা, এটি দিয়ে পরবর্তীতে আপনার আবেদনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন। আবেদন নম্বরটি সংরক্ষণ করার পর “Print” বাটনে ক্লিক করুন।
তারপর দেখবেন উপরের স্ক্রিনশটের মত একটি ফরম এসেছে। এই ফরমটি এখন আপনাকে প্রিন্ট করতে হবে। তো ফরমটি প্রিন্ট করার জন্য আপনাকে প্রিন্টার সিলেক্ট করে স্ক্রিনশটের মত “Print” বাটনে ক্লিক করতে হবে। ব্যাস, আপনার আবেদনটি হয়ে গেল।

এইবার এই প্রিন্টকৃত কপিটি আপনাকে ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে আপনার পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। জমা দেওয়ার পূর্বে প্রিন্টকৃত কপিটিতে আরো কিছু কাজ রয়েছে, সেগুলো দেখতে নিচে ফলো করুন।
যার জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে তার বয়স যদি ১৮ (আঠারো) বছরের নিচে হয়। তাহলে তার পক্ষে যে আবেদন করবেন (১) উপরের স্ক্রিনশটের মত সিলেক্টকৃত জায়গা তার নাম লিখতে হবে। জন্ম নিবন্ধন আবেদনকারীর কি হিসেবে পরিচিত? (পিতা/মাতা/অন্যান্য) তাতে টিকচিহ্ন দিতে হবে। জন্মের ৫ (পাঁচ) বছরের মধ্যে যদি আবেদন করা হয় তাহলে (২) টিকাদানকারী/স্বাস্থকর্মীর স্বাক্ষর নিতে হবে। আর যদি জন্মের ৫ (পাঁচ) বছর পর আবেদন করা হয় তাহলে (৩) এমবিবিএস ডাক্তার/কাছের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর নিতে হবে। এছাড়াও (৪) নিজ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) এর স্বাক্ষর নিতে হবে। ব্যাস, এই স্বাক্ষরগুলি নেওয়া হলে এইবার ফরমটি আপনার পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে জমা দিয়ে আসুন। আমি আবারো বলি, আবেদন করার পর ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে এটি জমা দিতে হবে। তানাহলে আবেদনটি বাদ হয়ে যাবে।

শেষ কথায় বলতে চাই, আজকের বিষয়টি আমি একদম সহজ ভাষায় আপনাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। তারপরও যদি কারো কোনো জায়গায় বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। এরজন্য আপনাকে এই পোস্টের কমেন্ট বক্সটি ব্যবহার করতে হবে।
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার পদ্ধতি!, জন্ম নিবন্ধন অনলাইন, জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে চেক, অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম, অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন দেখা, জন্ম নিবন্ধন কার্ড, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম ২০১৮